দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানে হাসপাতাল থেকে মানব প্লাসেন্টা (গর্ভফুল) সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)। তদন্তকারীদের দাবি, এসব প্লাসেন্টা প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমূল্যের বার্ধক্যরোধী (অ্যান্টি-এজিং) ইনজেকশন তৈরিতে ব্যবহার করা হতো।
গত সপ্তাহে ইসলামাবাদের একটি বাড়িতে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৫০০ কেজি সন্দেহভাজন মানব প্লাসেন্টা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে এফআইএ। সংস্থাটির প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বাড়িটিকে অবৈধভাবে প্লাসেন্টা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছিল, যেখানে ট্রলিতে সাজানো অবস্থায় শুকনো প্লাসেন্টা রাখা ছিল।
এছাড়া বুধবার ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিয়েতনামগামী একটি চালান থেকে আরও ১০০ কেজি মানবদেহের টিস্যু জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এফআইএ।
পাকিস্তানের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা হিনা কানওয়ালের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রতিটি প্লাসেন্টা প্রায় ৮০০ পাকিস্তানি রুপিতে সংগ্রহ করতেন। পরে সেগুলো বিদেশে রপ্তানি করা হতো, যেখানে এগুলো দিয়ে তৈরি প্রতিটি অ্যান্টি-এজিং ইনজেকশনের মূল্য প্রায় সাত লাখ পাকিস্তানি রুপি হতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
এফআইএ জানিয়েছে, এই চক্রের কার্যক্রম শুধু রাজধানী ইসলামাবাদেই সীমাবদ্ধ নয়; লাহোর, পেশোয়ার ও রাওয়ালপিন্ডিসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরেও তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং অভিবাসন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে।
পাকিস্তানের প্রচলিত আইনে মানব অঙ্গ বা দেহের অংশ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সংগ্রহ বা পাচারের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
এফআইএর এক কর্মকর্তা জানান, এর আগে অবৈধ মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত একাধিক অভিযানে সংস্থাটি কাজ করলেও মানব প্লাসেন্টা পাচারকে কেন্দ্র করে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম বড় অভিযান।
তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রথমে উদ্ধার করা বস্তুগুলো ভেড়ার প্লাসেন্টা বলে দাবি করলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সেগুলো মানব প্লাসেন্টা বলে স্বীকার করেন।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/